Skip to content

মধ্যরাতের কাব্য

মধ্যরাতের কাব্য

‘মধ্যরাতের কবিতাগুলো বাস্তবিকই মধ্যরাত-জাত। এখানে উপলব্ধির কাঠিন্য থাকলেও প্রকাশে শব্দের সাথে কোনো কঠোরতা অথবা কার্পণ্য দেখানো হয়নি।’

এ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই মধ্যরাতে লিখিত। এটি একটি প্রেম-আখ্যান। প্রতিটি কবিতার প্রেক্ষাপট মধ্যরাত, বিষয়বস্তু প্রেম। এ প্রেম দুজন মানুষের; একজন নবনীতা, অপরজনের নাম অরণ্য। পঞ্চাশটি কবিতার ভেতর দিয়ে ধরাবাহিকভাবে একটি গল্প বলা হয়েছে। প্রতিটি কবিতাই একটি অপরটি থেকে পৃথক, কিন্তু মিলিতভাবে একটি গল্প বলে যায়।

দুটি চরিত্রের পারস্পরিক দৈনন্দিন কথোপকথন, কখনো-বা একের প্রতি অপরের একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি। কোনো কবিতায় দুজনেই কথা বলে, কোনোটিতে কেবল নবনীতা, কোনোটিতে অরণ্য একা। প্রেম থাকে, বিরহ থাকে। সমাপ্তি কি ঘটে? না-কি শেষের পরেও কথা থেকে যায়?
লেখকের মতে, ‘মধ্যরাতে মানুষের কোনো মুখোশ থাকে না। এ সময় আমরা একান্তই আমার ‘আমি’ হয়ে উঠি। তাই মধ্যরাতে মানুষের সত্য অনুভূতির প্রকাশ ঘটে।’
সে বিবেচনায় এমন একটি কাব্যগ্রন্থ মধ্যরাতে রচিত হওয়াটাই প্রাসঙ্গিক।
বইয়ের ভূমিকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক কাবেরী রায়চৌধুরী লিখেছেন, ‘কী অনায়াস তার রচনা! পঙক্তিগুলো দৃষ্টি কেড়ে নেয়। কোথাও দুর্বোধ্যতা নেই। অথচ গভীর। গভীর কথা সহজভাবে বলা বড় সহজ নয়।’
কথাগুলো লেখকের ক্ষেত্রে শতভাগ সত্য। লেখক যখন ৪৪নং কবিতায় বলেন:

কেমন আছো নবনীতা?
অতঃপর
মাঝরাত্তিরে যখন উত্তর এলো,
তার বেশ পূর্বেই আমার মৃত্যু হলো!

তখন সে কথার সত্যতা মেলে।
আবার যখন লেখক বলেন:

তুমিবিহীন কি এক বিষম শূন্যতা;
প্রভাতের লাল আলো গোধূলিতে মিশে গিয়ে দেখে
রঙধনুগুলি বড্ড কালো!

সকালের সূর্যের রাতের অন্ধকারে বিলীন হওয়ার দৃশ্যকল্প এবং এর মধ্য দিয়ে ‘তুমিবিহীন’ ‘বিষম শূন্যতার’ বোধ প্রকাশের এমন সহজ অভিব্যক্তি আর কীই-বা হতে পারে!

 

অনলাইন অর্ডার লিঙ্ক: https://bit.ly/2Y9s21H

Copyright © 2020. All Rights Reserved.