Skip to content

পরজীবী তত্ত্ব

পরজীবী তত্ত্ব

‘এ গল্পটি সহনশীলতার- প্রেমে; গল্পটি আবেগের- ধর্মে; গল্পটি বিপ্লবের- রাজনীতিতে।’

২০১৮ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বাংলাদেশের সমকালীন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। নানাবিধ বাধার মুখে ঐ বছর অমর একুশে বইমেলায় বইটির প্রবেশ সম্ভব হয়নি। মেলায় প্রবেশের সুযোগ না পেলেও বইটি দেশের ভেতরে ও বাইরে, বিশেষত ইউরোপের কয়েকটি দেশে বাঙালিদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলে।

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল। বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে প্রচণ্ড উত্তাল উচ্ছৃঙ্খল একটি সময়। প্রগতিশীল ও মুক্তচর্চায় নিবেদিত ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্টদের হত্যা হতে থাকে একের পর এক। কখনো প্রকাশ্যে জনসম্মুখে, কখনো-বা রাতের অন্ধকারে নির্জনে; ধর্মীয় চেতনার ঝাণ্ডা দুলিয়ে ঘটতে থাকা এসব হত্যাকাণ্ড একটা সময় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দেখা দেয়। পৃথিবীর চিরকালীন ইতিহাসের মতোই মানুষের এ মৃত্যু ক্রমেই রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত হয়ে উঠতে থাকে। সমাজ-ধর্ম-রাজনীতির কুটমিশেল কীভাবে একটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে- এ ইতিহাস লিখে রাখাটা ছিল সময়ের দাবি।

 

তৎকালীন এ সকল চাঞ্চল্যকর ঘটনা ও অস্থির সমাজজীবনকে স্বীকার করে ওয়াহেদ সবুজ রচনা করলেন তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরজীবী তত্ত্ব’। মনস্তাত্ত্বিক রহস্যোপন্যাসের কাঠামোতে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে তিনি সংরক্ষণ করে রাখলেন বইয়ের পাতায়।


একজন নাস্তিক ব্লগারের হত্যার ঘটনা দিয়ে গল্পের শুরু। তদন্ত চলাকালেই পরপর খুন হয়ে যায় আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে কেউ হিন্দু সংস্কৃতিকর্মী, কেউ প্রগতিশীল মুসলিম, কেউ নাট্যাভিনেত্রী। প্রতিটি হত্যার আলাদা আলাদা ধরন ও খুন হওয়া মানুষদের সম্পূর্ণ পৃথক আত্মপরিচয় ক্রমেই তদন্তকাজকে জটিল করে তুলতে থাকে। কখনো মনে হয় নিছক ব্যক্তিগত প্রতিশোধস্পৃহা, কখনো আবার বৃহৎ রাজনৈতিক বিপ্লবের পরিকল্পিত ইশতেহার বলে মনে হতে থাকে। সময় গড়ায়; ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রত্যক্ষ সম্ভাবনার সাথে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিতে থাকে রাজনৈতিক কুটকৌশলের নেতিবাচক স্বরূপ।


প্রশ্ন থেকে যায়- লেখক যে বললেন, ‘এ গল্পটি গভীর থেকে প্রেমের।’ তাহলে?
উত্তরও তিনিই দিয়েছেন: এ প্রেম- নারীতে-পুরুষে, প্রেম- ধার্মিকে-অধার্মিকে-আস্তিকে-নাস্তিকে, প্রেম- জনগণে-রাজনীতিতে!


কুরিয়ার অর্ডার: +৮৮০১৭১৯২৭০৭৭২

Copyright © 2020. All Rights Reserved.