Skip to content

প্রযত্নে আকাশ

প্রযত্নে আকাশ

‘এ গল্প আজকের নয়, বিশ বছর আগের নয়; এ গল্প সহস্র বছরের, অগণিত হৃদয়ের- ভালোবাসার অথবা বেদনার!’


পৃথিবীর সকল প্রেমের গল্পই মূলের দিক থেকে এক ও অভিন্ন। একই অনুভূতির ধারায় উৎসারিত এ পৃথিবীর সকল প্রেম-কাহিনী। তাই প্রেমের গল্পগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে বরং কালের সীমা অতিক্রম করে সর্বকালীন রূপ পরিগ্রহ করে, প্রেমের গল্পগুলো স্থানিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বিশ্বমানবের হয়ে ওঠে।


‘প্রযত্নে আকাশ’ একটি নিখাদ প্রেমের উপন্যাস। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ বছর আগের সমকালের প্রেক্ষাপটে। সালটি ১৯৯৮। তথ্য-যোগাযোগপ্রযুক্তিগত বিপ্লবের আগের সাদামাটা জীবনের প্রতীক্ষা ও প্রেমের গল্প। এমন একটি সময় যখন জীবন ছিল অত্যন্ত ধীর, শান্ত, স্নিগ্ধ; যখন জীবন ছিল অপেক্ষার। প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে উত্তরের জন্য পক্ষকাল অপেক্ষার ক্ষণগণনার বাস্তবতায় যখন রচিত হতো প্রেম- এ গল্পটি সেই সময়ের। সঙ্গত কারণেই এটি লিখিত হয়েছে পত্রের শরীরে। বাংলা সাহিত্যে যে গুটিকয়েক পত্রোপন্যাস রয়েছে, তার মধ্যে ‘প্রযত্নে আকাশ’ একটি।

উপন্যাসের গল্প বিষয়ে লেখকের ভাষ্য:

‘একটি সত্য ঘটনা, যা এ সময়ের; একটি কাল্পনিক বাস্তবতা, যা বিশ বছর আগের।’
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, গল্পটি রচিত হয়ে কোনো একটি সত্য ঘটনাকে অনুসরণ করে। সে ‘সত্য’ ঘটনাটি কি বিশ বছর আগের? তা তো নয়। কেননা লেখকের ভাষ্যে তা ‘এ সময়ের’। বিশ বছর আগের সে সময় বিষয়ে তিনি বলছেন- ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’। বাস্তবতা কি কখনো কাল্পনিক হয়? এ সকল দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যেই বিধৃত রয়েছে এ উপন্যাসের বিশেষত্ব, এর প্রকৃত সৌন্দর্য।


গল্পটি একজন কবি ও তাঁর একজন নারী-পাঠককে নিয়ে। তাঁদের পরিচয় হয় বইমেলায়। সে পরিচয় ধীরে ধীরে প্রগাঢ় সম্পর্কে রূপ নেয়, বিনিময় হয় পারস্পরিক অনুভূতির, সে অনুভূতিগুলো দুজন দূরস্থিত মানুষকে অসংজ্ঞায়িত এক বন্ধনে জড়িয়ে নেয়; আর এ সবই ঘটে তাঁদের পারস্পরিক চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যমে। পুরো উপন্যাসটি প্রকৃতপক্ষে একগুচ্ছ চিঠির সংগ্রহ; উপন্যাসের যাবতীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে কয়েকটি চরিত্রের নিজেদের মধ্যে বিনিময়কৃত চিঠিপত্রের মধ্যে দিয়ে।


উপন্যাসের গল্প সম্পর্কে লেখকের বক্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায়, বর্তমান সময়ের একটি ঘটনাকে ১৯৯৮ সালের দিন-রাত্রির ওপর স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এ ‘সত্য’ ঘটনাটি কার জীবন থেকে নেয়া? স্বয়ং লেখকের জীবন থেকে নয় তো?
উপন্যাসের নায়ক হাসান আরিফ একজন কবি, তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়, ঘটনাটি বর্তমানের। উপন্যাসের শুরুর দিকে এর কেন্দ্রীয় চরিত্র অবনীর চিঠিতে লেখকের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতার উদ্ধ‍ৃতি; উপন্যাসে গ্রন্থটির নাম ‘নিশিকাব্য’, যেখানে প্রকৃত বাস্তবে লেখকের উক্ত গ্রন্থটির নাম ‘মধ্যরাতের কাব্য’। এ সকল কিছু মিলিয়ে পাঠকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করেন এ উপন্যাসের গল্পটি লেখকের নিজ জীবনের।
অথবা, লেখকের জবান থেকেই- ‘এ গল্প সহস্র বছরের, অগণিত হৃদয়ের…’।


অনলাইন অর্ডার লিঙ্ক: https://bit.ly/2yMmEab

Copyright © 2020. All Rights Reserved.