Skip to content

স্পর্শ

স্পর্শ

আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে, আমরা সবসময়ই প্রেমের ওপর পবিত্রতা ও মহত্বের এবং শরীরের ওপর অশ্লীলতার দায় চাপিয়ে দিতে চাই। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবে পবিত্রতা বা অশ্লীলতা বলে কোনো ধ্র‍ুব ধারণার অস্তিত্ব কি আছে পৃথিবীতে?

 

তবে প্রেম যখন দাম্পত্যে পরিণত হয়, তখন শরীরের চাইতে বড় হয়ে দাঁড়ায় সময় ও একচ্ছত্র অধিকারের চাহিদা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের চাহিদা। দুটো মানুষের প্রেমকালীন একান্ত সম্পর্কের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে আরও কিছু অন্য মানুষের ভালোলাগা-না লাগা, স্বার্থ-ঈর্ষা! এ সকল টানাপোড়েনে চিরায়ত প্রেম তখন বন্দী হয়ে পড়ে প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের শেকলে, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বেড়াজালে। দাম্পত্যের এ চিরায়ত রেখাচিত্র ‘স্পর্শ’।

গল্প-উপন্যাসের প্রেমগুলোতে চাঁদের জ্যোৎস্না আর বৃষ্টির ঘ্রাণ যতটা মহৎ রূপে ধরা দেয়, বাস্তবের প্রেমে আদৌ কি তা হয়? বইয়ের পাতা থেকে প্রেমগুলো যখন মাটির পৃথিবীতে এসে আবির্ভূত হয়, তখন তার মাহাত্ম্যে যুক্ত হয় শরীর। কবিতার চরণে প্রেমিকার চোখকে ‘পাখির নীড়’ উপমায় যতটা স্বচ্ছন্দ মনে হয়, বাস্তবে তা হয় না। এ কথা তো ধ্রুব সত্য যে মনের সাথে শরীরের সংযোগ না ঘটলে প্রেম পূর্ণতা পায় না। তাই শরীর ও প্রেমের এ অমোঘ সম্পর্ককে অস্বীকার করার কোনো অর্থ নেই। প্রেমের এ চিরবাস্তব চিত্রপট ‘স্পর্শ’।

উপন্যাসের গল্প চরিত্রগুলোকে নিয়ে লেখকের ভাষ্য:
গল্প এগিয়েছে নিজ গতিতে; চরিত্রগুলোকে তাদের যার যার বৈশিষ্ট্য বুঝিয়ে দিয়েছি, তারা নিজেদের মনমতো চলেছে, নিজেদের মতো করেই সংলাপ রচনা করেছে। এ উপন্যাসের কোনো চরিত্রকেই আমি প্রভাবিত করিনি, বিন্দুমাত্রও নয়। তাই এখানে যারা আছে- নিশা, সজল, চমক, তারিন, রবিন, চৈতি, মুহিত ও আরও কয়েকজন- তারা প্রকৃতই জীবন্ত মানুষের মতো; এরা লেখকের জোর করে চাপিয়ে দেয়া কোনো কাজ করেনি, চাপিয়ে দেয়া কোনো কথাও বলেনি।
এটি একটি মনোদৈহিক উপন্যাস। এখানে চরিত্রগুলো প্রেমের সাথে শরীরের সস্পর্ক বিষয়ে যা যা ভাবে, এবং তাদের নিজেদের জীবনে তারা যা যা করেছে, সেসবের কোনোটার ওপরেই আমার হাত নেই।

উপন্যাসের দুটো চরিত্র নিয়ে লেখকের নিজস্ব বিশেষ অনুভূতি রয়েছে।
মুহিত বিষয়ে লেখক বলছেন:
‘ভালোবাসা প্রমাণ-নাপ্রমাণের কোনো বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণরূপেই বিশ্বাস ও আস্থার বিষয়! তারপরেও, ভালোবেসে প্রিয় মানুষটাকে পাবার জন্য মুহিত যে যুদ্ধটা করেছে, তা তার ভালোবাসার ‘প্রমাণ’ হিসেবে যথেষ্ট!
আমার নিজেকে প্রায় প্রায়ই মুহিতের মতো লাগে! একটা মানুষ ভালোবাসার জন্য এত কিছু করেও নিজের ভালোবাসাটা বোঝাতে পারে না! যাকে ভালোবাসলো, সে মানুষটা এ ভালোবাসার কিছুমাত্রও কি উপলব্ধি করতে পারবে না? যার জন্য জীবনের সকল সুযোগ, সকল সোনালি সম্ভাবনাকে সে জলাঞ্জলি দিলো, সে মানুষটা এ ভালোবাসার দ্বারা কিছুমাত্রও প্রভাবিত হবে না?
ভুল-বোঝাবুঝির শক্তি কি এতটাই বেশি যে এত এত ভালোবাসার আবেদন, ভালোবাসার জন্য এত এত সংগ্রাম- সব সেখানে ব্যর্থ হবে? অভিমান কি মুহিতেরও কিছু থাকতে পারবে না? কষ্টের অধিকার কি তারও কিছু নেই যে এ ভালোবাসার মূল্য বুঝলো না?’


চৈতিকে ঘিরে লেখকের ভাবনাটা এ রকম:
‘চৈতির জন্য আমার ভেতরে যে মহাশূন্যতা, নিগূঢ় বেদনা আমি অনুভব করি, তা কি সে কখনো জানতে পারবে?
একটা মেয়ে কীভাবে তার জীবন নিয়ে এত এত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে?
আর্থিক সংগ্রাম তাও তো মানিয়ে নেয়া যায়, কিন্তু এই চরম একাকিত্ব নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম?
কী অদ্ভ‍ুত জীবন এ মেয়েটার! সে জানে- তার এ দৃঢ়কঠিন অভিমানই তার এই শূন্যতার কারণ; সে জানে- যার ওপর অভিমান, সে মানুষটাও কী ভীষণভাবে তাকে পেতে চায়! অথচ তারপরও অভিমান ভেঙে ছুটে গিয়ে তার বুকে আছড়ে পড়তে পারে না! এ কেমন শৃঙ্খল? এ কেমন অভেদ্য দেয়াল?
যদি সম্ভব হতো, তার জীবনটা বদলে দিতাম। সেটা পারলে আমিও কিছুটা স্বস্তি পেতাম!
কিন্তু কী আর করা! জীবন তো এমনই! জীবনের গল্পগুলো নিজের মতো করেই তৈরি হতে থাকে; না কারও বাধা মানে, না কারও বারণ!’


অনলাইন অর্ডার লিঙ্ক: https://bit.ly/2xef9IP

Copyright © 2020. All Rights Reserved.