Skip to content

The Author

The Author

কথাসাহিত্যিক ওয়াহেদ সবুজ এর জন্ম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত কুষ্টিয়ায়, ১৯৯০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। মো: আব্দুল মজিদ মোছা: আমেনা খাতুন দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। জীবনের প্রথম ভাগ তাঁর কুষ্টিয়াতেই কাটে। এরপর পড়াশোনার সুবাদে রাজধানী ঢাকায় থাকেন বছর পাঁচেক। তারপর পুনরায় ফিরে আসেন জন্মস্থানে। এখানেই তাঁর পেশাজীবনের শুরু।

তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার একটি অংশ সম্পন্ন হয়হাজী শরীয়তউল্লাহ একাডেমি নামে কুষ্টিয়ার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। এরপর কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে ভর্তি হন তৃতীয় শ্রেণিতে। সেখান থেকেই এসএসসি। তারপর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২০০৮ সালে। সেখানে এক বছর ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে; অসম্পূর্ণ রেখে পরের বছর ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

পড়াশোনা চলাকালেই, ২০১৪ সালে নিজ উদ্যোগে জন্মস্থান কুষ্টিয়ায় গড়ে তোলেনসৃজন পাবলিক স্কুল নামে একটি মাধ্যমিক স্কুল। এর আগেই বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাসহযোগী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। সে সময় কুষ্টিয়া শহরের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সহায়তার লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে সৃজন একাডেমিক কেয়ার নামে একটি শিক্ষা-সহযোগী প্রতিষ্ঠানও তিনি গড়ে তুলেছিলেন। পড়াশোনা শেষে কুষ্টিয়ায় ফিরে এলেও ২০২০ সালে পুনরায় ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একটি পাবলিক রিলেশন ফার্মে কর্মরত আছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই নানাবিধ সামাজিক সাংকৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। একজন সংগঠক সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে তাঁর প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০১১ সালে, ‘পৃথিবীর দীর্ঘতম দেয়ালপত্রিকা প্রোজেক্ট এর উদ্যোক্তা হিসেবে।শেকড় নামক দেয়ালপত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম দেয়ালপত্রিকা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন ২০১৫ সালে। সে বছর জুনে গড়ে তোলেন সমাজকল্যাণ সংস্থাআমরা ভালোর দলে এরপরই মূলত সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করতে থাকেন। যুক্ত হনকুষ্টিয়া ফিল্ম সোসাইটি, ‘চর্যাপদ, কুষ্টিয়াসহ আরও বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনে। কুষ্টিয়ার স্থানীয় সামাজিকসাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলেনসম্মিলিত সামাজিকসাংস্কৃতিক জোট, কুষ্টিয়া, যেটি বর্তমানেসম্মিলিত সামাজিক জোট, কুষ্টিয়া নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাআমরা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া এর আশপাশের জেলাগুলোতে শিক্ষার প্রসার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি দারুণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে দাতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানআমরা ওয়েলফেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম।

লেখালেখির সাথে জড়িত ছাত্রাবস্থাতেই। তাঁর লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০২ সালেআজকের আলো পত্রিকায়; সে সময় তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। এর পর থেকেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকা সাহিত্যসাময়িকীতে নিয়মিত তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালেই, ২০১২ সালে তাঁরই একজন ছাত্রের সাথে যৌথ উদ্যোগে নিজ সম্পাদনায় প্রকাশ করেনসুহৃদ নামে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। অর্ধবছরব্যাপী নিয়মিত প্রকাশের পর আর্থিক টানাপোড়েনে এটি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি সাহিত্যসম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টাল ওয়েব ম্যাগাজিনে।  বিজ্ঞান ও সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকীসাইন্যাপ্স এর সাথে যুক্ত আছেন উপদেষ্টা হিসেবে। বর্তমানে জাতীয় দৈনিক অধিকার এর সাথে কাজ করছেন ফিচার লেখক হিসেবে।

নানা শ্রেণির মানুষকে বই পড়া সাহিত্যের সাথে সংযুক্ত করতে তিনি ২০১২ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি পাঠাগার গড়ে তোলেন। নাম দেনঅতিথি গ্রন্থাগার গ্রন্থাগারের পৃষ্ঠপোষকতায় নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ২০১৯ সালে শুরু করেন ঘরে ঘরে পাঠাগার সেবা কার্যক্রমপাঠকসেবা এর আগে, ২০১৬ সালে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভাষাগত শুদ্ধতা ছড়িয়ে দিতে এবং ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে তিনি শুরু করেনবানান আন্দোলন নামে একটি সোশ্যাল মুভমেন্ট। এগুলোর পাশাপাশি, স্থানীয় পর্যায়ের লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানচতুরঙ্গ প্রকাশন

লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ অনেক আগেই ঘটে থাকলেও গ্রন্থকার হিসেবে মূলধারার সাহিত্যচর্চার সাথে তাঁর নাম যুক্ত হয় ২০১৭ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থমধ্যরাতের কাব্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বইটি সে বছর পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাসপরজীবী তত্ত্ব সমকালীন ধর্মীয়, সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত মনস্তাত্ত্বিক রহস্যোপন্যাসটি বাংলাদেশের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হয়। বইটি মেলায় প্রবেশের সুযোগ না পেলেও দেশের ভেতরে বাইরে, বিশেষত ইউরোপের কয়েকটি দেশে বাঙালিদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলে। পরের বছর প্রকাশিত হয় লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাসপ্রযত্নে আকাশ ১৯৯৮ সালের সময়কালের প্রেক্ষাপটে একটি সত্য ঘটনার ছায়া নিয়ে রচিত হয় এই প্রেমআখ্যান। বাংলা সাহিত্যে গুটিকয়েক পত্রোপন্যাসের মধ্যে এটি একটি। একই বছররৌদ্রমেঘের গল্প নামে প্রকাশিত হয় একটি গল্পগ্রন্থ। তবে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে তিনি লেখেন ভিন্ন ধরনের অতিক্ষুদ্র গল্প। লেখক বাংলায় গল্পগুলোর নাম দেনছোট্ট গল্প আর্নেস্ট হেমিংওয়ে প্রবর্তিতসিক্স ওয়ার্ড স্টোরি এর অনুসরণে নতুন গঠনের গল্পগুলো বাংলা সাহিত্যে একটি নবসংযোজন। সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর মনোদৈহিক উপন্যাসস্পর্শ প্রেমের সাথে মন শরীরের মিথস্ক্রিয়ার বিষয়বস্তু নিয়ে রচিত উপন্যাসটি ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

লেখালেখির পাশাপাশি ওয়াহেদ সবুজ যুক্ত আছেন অডিওভিজুয়াল নির্মাণের সাথেও। নিজের লেখা গল্প থেকে তিনি নির্মাণ করেছেন শর্টফিল্মস্টোরি ৬৫ নিজের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানছোট্ট প্রোডাকশন এর ব্যানারে ২০১৭ সালে এটি মুক্তি পায়। এরপর স্বীয় পরিকল্পনা উপস্থাপনায় তৈরি করতে থাকেন পর্বভিত্তিক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানকোয়েশ্চন নম্বর এবং ডকুমেন্টারিশহরের শেকড়ে এর পাশাপাশি কাজ করছেন বিভিন্ন অডিওভিজুয়াল মিডিয়ায় গ্রন্থণা উপস্থাপনার নানাবিধ ক্ষেত্রে।

In English

Oahad Sabuj was born on 13 September 1990 in Kushtia, known as the cultural capital of Bangladesh. He is the youngest of the five children of Md. Abdul Mazid  and Mst. Amena Khatun couple. He spent the earlier age of his life in Kushtia. After that he stayed in the capital Dhaka for five years due to his studies. Then he came back to his birthplace. Here is the beginning of his career.

A part of his primary education was completed at a kindergarten school in Kushtia named ‘Haji Shariatullah Academy.’ Then he was admitted in Kushtia Zila school and attended the SSC Examination from here. After completing HSC from Kushtia Government College, he was admitted to Rajshahi University in 2008. He continued his study in the department of ‘English Literature’ there for one year. Leaving it incomplete, he was admitted to Jagannath University the following year.

While studying, in 2014, he established a secondary school named ‘Srijon Public School’ in Kushtia on his own initiative. Earlier, he started his career by teaching in various private educational institutions. At that time, he also set up an educational institution named ‘Srijon Academic Care’ in a joint venture to help the local students in Kushtia. After finishing his studies, he returned to Kushtia but started living in Dhaka again in 2020. He is currently working in a public relations firm.

He was involved in various social and cultural activities from his student days. He made his debut as an organizer and cultural activist in 2011, as the entrepreneur of the ‘World’s Longest Wall Magazine Project’. He was also the editor of the wall magazine named ‘Shekor’. In January 2012, it was recognized as the longest wall magazine in the history of Bangladesh. He formally started social activities in 2015. In June of that year, he formed the social welfare organization ‘Amra Valor Dole’ (We are in a good team). After that he started gaining wide recognition as a social and cultural activist. He joined ‘Kushtia Film Society’, ‘Charyapad, Kushtia’ and many other cultural organizations. In a joint venture with the local socio-cultural activists of Kushtia, he formed a Socio-Cultural Alliance ‘Sammilito Samajik-Sangskritik Jote, Kushtia’, which is currently operating under the name ‘Sammilito Samajik Jote, Kushtia’. The latest voluntary social welfare organization formed by him is  ‘AMRA Welfare Association’ which was formed in 2018. This organization has been playing a great role in the expansion of education and creating employment in Kushtia and its surrounding districts. The process to establish a charitable educational institution ‘AMRA Welfare School’ is underway.

While still a student, he involved in writing. His work was first published in 2002 in ‘Ajker Alo’; at that time he was a  school-going student. Since then, his writings have been regularly published in various periodicals and literary periodicals. While still a student at the university, he published a monthly literary magazine named ‘Suhrid’ in 2012 jointly with one of his students. After a half-year-long regular publication, it was shut down due to financial problems. He has worked as the literary editor for several online news portals and web magazines. He is associated with the science and literary magazine ‘Synapse’ as an advisor. He is currently working with the national daily Odhikar as a feature writer.

He set up a private library in 2012 to connect different classes of people with reading and literature, named ‘Otithi Library’. Under the patronage of this library, he started the door-to-door library service project ‘Pathok-Seba’ (Service for the readers) in 2019 under his own supervision. Earlier, in 2016, he set up a social movement called ‘Banan Andolon’ to spread linguistic purity and make people aware of the use of language. In addition to these, he has set up his own publishing house ‘Choturongo Prokashon’ with the aim of sponsoring local writers.

Although he made his debut as a writer long ago, his name was associated with mainstream literature as an author in 2017 with the publication of his first book of poetry, ‘Madhyaraater Kabya’ (Midnight Poetry). The book was widely acclaimed by readers that year. His first novel, ‘Porojibi Totwo’ (Parasitic Theory), was published in 2018. Written in a contemporary religious, social and political context, this psychological mystery faced obstacles in entering the national book fair ‘Amor Ekushey Granthamela’. Although the book did not get a chance to enter the fair, it received a great response from Bengalis inside and outside the country, especially in some European countries. The following year, the author’s second novel, ‘Projotne Akash’ (C/O Heaven), was published. This love story is written in the shadow of a true incident in the context of the year 1998. It is one of the few epistolary novels in Bengali literature. In the same year, a story book titled ‘Rouddromegher Golpo’ (Story of the Sun & Cloud) was published. However, he went beyond the conventional genre and wrote different kinds of short stories. The author names these stories in Bengali as ‘Chhotto Golpo’. Following the ‘Six Word Story’ introduced by Ernest Hemingway, these newly formed stories are a new addition to Bengali literature. His latest novel, ‘Sporsho’ (The Touch), was published in 2020. The novel, which deals with the interaction of mind and body with love, has already received a wide response across the country.

In addition to writing, Oahad Sabuj is involved in audio-visual production. He has made a short film titled ‘Story 65’ that was released in 2016 under the banner of ‘Chotto Production’.
After that, he started making episode-based interview program ‘Question No. 5’ and documentary ‘Shohorer Shekore – The Story of Cities’ in his plan and presentation. Along with this he is working in various fields of writing and presentation in various audio-visual media.

Copyright © 2020. All Rights Reserved.